মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০

Apis mel (এপিস মেল)

 সাধারণ লক্ষণঃ

    ত্বকের কোষীয় টিস্যুগুলির উপর এবং মিউকাস মেমব্রেনের শোথ সৃষ্টি করে। বিভিন্ন অংশে ফোলাভাব বা ফুসকুড়ি, লাল গোলাপী আভা, যন্ত্রণাদায়ক অবস্থা, ঘা, গরমের অসহিষ্ণুতা এবং সামান্য স্পর্শ এবং বিকেলে উত্তেজকতা কিছু সাধারণ লক্ষণ এবং কিডনির প্রদাহ। এপিস বিশেষত বাইরের অংশ, ত্বক, অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলির আবরণ, সিরিস ঝিল্লিগুলিতে কাজ করে। এটি ফুসফুস, মস্তিষ্কের ঝিল্লি, হার্ট, প্ল্যুরিটিক এফিউশন ইত্যাদির সাথে সিরিয়াস প্রদাহ সৃষ্টি করে স্পর্শে এবং সাধারণ ব্যথায় চরম সংবেদনশীলতা চিহ্নিত করা হয়। এপিসের বিশেষ লক্ষণ হলো সকল লক্ষণের সাথে শোথ বা ফোলাভাব বা ফোলা থাকে এবং হুল ফোটার ন্যায় জ্বালা অনুভূত হয়।



মনঃ

     উদাসীনতা এবং অজ্ঞানতা। হিংসা, ভয়, ক্রোধ, উদ্বেগ, শোক, পড়া বা অধ্যয়নের চেষ্টা করার সময় মনকে কেন্দ্রীভূত করতে না পারা।

মাথাঃ

     পুরো মস্তিষ্ক অনেক ক্লান্ত বোধ করে। হাঁচি দিলে বা চোখ বন্ধ করায় খারাপ বোধ। উত্তাপ, ধড়ফড় করা, জটিল ব্যাথা, চাপে ভালবোধ এবং গতিতে আরও খারাপবোধ।

চোখঃ

     লাল রঙের, স্ফীত, পোড়াও এবং কনজেক্টিভা উজ্জ্বল লাল, দমকা। কক্ষপথের চারপাশে ব্যথা। কর্নিয়ার স্ট্যাফিলোমা।

 কানঃ

     বাহ্যিক কান লাল, ফোলা, ঘা এবং যন্ত্রণা।

 নাকঃ

     নাকের ডগায় শীতলতা। তীব্র ব্যথা সহ লাল, শোথ বা ফুলে উঠা।

মুখঃ

     ফুলে গেছে, লাল, ব্যথা। ডান থেকে বামে প্রসারিত। জিহ্বা জ্বলন্ত লাল, ফোলা, ঘা, জিহ্বা টুকরো টুকরো করা অনুভূতি, লাল ও গরম। মাড়ি ফুলে গেছে। ঠোঁট ফোলা, বিশেষত উপরের। এরিসিপ্যালাসের মতো লাল, ঝাঁকুনি, জিহ্বার ক্যান্সার।

মলঃ

     প্রতিটি গতিতে অবিচ্ছিন্ন, রক্তাক্ত, ব্যথাহীন মলদ্বার। ডায়রিয়া জলযুক্ত, হলুদ; মল ছাড়া প্রস্রাব করা যায় না, খাওয়ার পরে আরও খারাপ। কোষ্ঠকাঠিন্য; মনে হয় যেন মলদ্বারে কিছু  ফোটানো আছে।

প্রস্রাবঃ

     প্রস্রাব করার সময় জ্বলন্ত জ্বালা এবং বেদনা। আগুনের মত জ্বালা, প্রস্রাব ভালভাবে নির্গত না হওয়া। প্রস্রাবের সময় হুল ফোটারমত জ্বালা অনুভূত হয়।

 মহিলা.

     ল্যাবিয়ার শোথ; ঠান্ডা জল দ্বারা মুক্তি ব্যথা এবং শোকের যন্ত্রণা; ওভারাইটিস; ডান ডিম্বাশয়ে খারাপবোধ। মাসিকগুলি দমন করা হয়, মস্তিষ্কে এবং মাথার লক্ষণগুলির সাথে, বিশেষত কম বয়সী মেয়েদের মধ্যে। মারাত্মক ডিম্বাশয়ের ব্যথা সহ ডিসম্যানোরোহিয়া। ভারী পেট, অজ্ঞানতা, ডিম্বাশয়ের টিউমার, পেট এবং জরায়ু অঞ্চলের উপর দুর্দান্ত কোমলতা।

বিঃদ্রঃ নিজ উদ্যোগে কোন ঔষধ সেবন করবেন না, নিকটস্থ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ি ঔষধ সেবন করুন।

 

Share:

রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০

বিয়ের আগে হবু বর ও কনের ব্লাড গ্রুপ পরীক্ষা করা কি অত্যন্ত জরুরী?


অনেক হবু স্বামী -স্ত্রীকে দেখা যায় ব্লাড গ্রুপ নিয়ে চিন্তিত হতে। বেশিরভাগ মানুষেরই ধারণা বর ও কনের ব্লাড গ্রুপ মিলে গেলে হতে পারে নানান রকম সমস্যা? আসলেই কি তাই? না, ধারণাটি একদম ভুল। ব্লাড গ্রুপ মিলে গেলে কোনো সমস্যা নেই। অর্থাৎ স্বামী বা স্ত্রীর উভয়ের ব্লাড গ্রুপ যদি Positive অথবা Negative হয় তাহলে কোন সমস্যা নেই শুধু স্বামীর রক্তের গ্রপ যদি Positive হয় এবং স্ত্রীর রক্তের গ্রপ যদি Negative হয় সমস্যা শুধু সেইখানেই। আবার স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ যদি Positive হয় এবং স্বামীর Negative হয় তাহলেও কোন সমস্যা নেই। তবে বিয়ের আগে বর ও কনের ব্লাড গ্রুপ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী একটি বিষয়। কেন এটা এত জরুরী? নিম্নের বিষয় গুলো পড়লেই বুঝতে পারবেন।

ব্লাড গ্রুপ পজিটিভ অথবা নেগেটিভ কেন হয়? 

  রক্তে যদি Rh factor নামে একটি ফ্যাক্টর থাকে যাহা এক প্রকার Protein, এটি রক্তের red cell এর surface এ অবস্থান করে। Rh factor বা Rhesus factor যাহা Rhesus নামক এক প্রজাতীর বানরের রক্তের কমন factor. ইহা যদি রক্তে উপস্থিত থাকে তবে রক্ত হবে +ve (positive), আর যদি Rh factor উপস্থিত না থাকে তাহলে রক্ত হয় Negative (-ve).

ব্লাড গ্রুপের প্রকারভেদঃ 

 রক্তের প্রধান গ্রুপ ২টি যথা – ‘A’ ও ‘B’ সর্বমোট গ্রুপ গুলো নিম্নরুপঃ A +ve, A -ve, B +ve, B -ve, AB +ve, AB –ve, O +ve, O –ve

Rh factor বা রক্তের গ্রুপ negative বা positive কি ভাবে সৃষ্টি হয়? 

যদি পিতা-মাতার যে কোন একজনের রক্তে Rh factor থাকে তবে সন্তানের রক্তে Rh factor +ve (positive) অথবা Rh factor –ve (Negative) হতে পারে। অর্থাৎ বাবা মায়ের যে কোন একজনের রক্তের গ্রুপ positive হলে সন্তানের রক্তের গ্রুপ positive অথবা Negative হবে। কিন্তু পিতা-মাতার উভয়ের রক্তের গ্রুপ যদি positive হয় তবে সন্তানের রক্তের গ্রুপ হবে positive আবার পিতা-মাতার উভয়ের রক্তের গ্রুপ যদি Negative হয় তবে সন্তানের রক্তের গ্রুপ হবে Negative এটি একটি inherited case বা Genetic ব্যাপার।

Rh factor এর উপস্থিতি বা রক্তের গ্রুপ Positive অথবা Negative হলে কি হয়? 

 মায়ের রক্তের গ্রুপ যদি Negative হয় এবং ভ্রুনের রক্তের গ্রুপ যদি Positive হয় সে ক্ষেত্রে মায়ের রক্তের সঙ্গে সন্তানের রক্তের একটি Miss matching হয় medical term এ যাকে Rh incompatibility বলে। এ ক্ষেত্রে ১ম সন্তানের বেলায় তেমন কোন সমস্যা হয়না তবে পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
গর্ভকালিন সময়ে ভ্রুনের রক্ত এবং মায়ের রক্ত বিনিময় হয়না কিন্তু গর্ভাবস্থার শেষের দিকে যে কোন এক সময় অথবা প্রসব কালীন সময়ে সামান্য কিছু রক্ত ভ্রুণ দেহ থেকে গর্ভফুলের মাধ্যমে মায়ের দেহে স্থানান্তর হতে পারে। এ ক্ষেত্রে মায়ের রক্ত ও ভ্রুণের রক্ত মিশে গিয়ে ভ্রুণের Rh factor মায়ের দেহে Rh immunoglobulin নামক Antibody তৈরী করে।আর পরবর্তীতে গর্ভকালীন সময়ে সমস্যার সৃষ্টি করে এই Rh Immunoglobulin antibody.
এই antibody পরবর্তী গর্ভ কালীন সময়ে Rh +ve ভ্রুণের দেহে প্রবেশ করে তার লোহিত রক্ত কনিকা গুলিকে (RBC) আক্রমন করে, মুলত RBC কে ধ্বংশ করে। (agglutination হয়)। এ অবস্থাকে hemolytic anemia বল। পরর্বতীতে hemolytic anemia এর কারণে গর্ভের ভ্রুণ মারা যায়। (Hemoglobin কমে যাওয়ায় ভ্রুণের দেহে Oxygen এর ঘাটতি দেখা দেয়। ভ্রুণ মারা যাওয়ার এটিও একটি কারন।)

সমস্যা সমাধানরে উপায়- 

১.বিবাহ পূর্ব সর্তকতাঃ- Blood group জেনে বিয়ে করা।
২. বিবাহ উত্তর করণীয়ঃ- একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেকে সন্তান জন্মদানের ব্যবস্থা নেয়া। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ সমস্যার সমাধান আছে।
Share:

ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ কী, কারন ও লক্ষণ।



বেশিরভাগ সময়েই মেয়েরা তাদের শারীরিক সমস্যাগুলো এড়িয়ে যায় বা কারো সাথে খোলামেলা আলোচনা করতে ইতস্তত বোধ করে। একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর মাসের নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন প্রতিটা মেয়েকেই পিরিয়ডের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এটা অতি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক ঘটনা! তেমনি সাদাস্রাব বা হোয়াইট ডিসচার্জও মেয়েদের জন্য একটি সর্বজনীন বিষয়। প্রতিটা মেয়েরই জানা উচিত যে মাসের কোন সময়ে কেমন ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ থাকতে পারে, এটার স্বাভাবিক রঙ কেমন হয় ও কোন সময়ে তাকে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। চলুন, আজ আমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেই!



ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ কী?

যোনিপথ দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে যেই স্রাবটা বের হয়, সেটাই ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ! ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ মেয়েদের প্রজনন পদ্ধতিকে পুনরুৎপাদনশীল করে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্লুইড বা মিউকাস বের হয়ে ভ্যাজাইনার মৃত কোষ, অনিষিক্ত ডিম্বাণু ও ব্যাকটেরিয়া বের করে দেয় এবং ইনফেকশন প্রতিরোধ করে। ডিসচার্জের মাধ্যমে মেয়েদের রিপ্রোডাক্টিভ সিস্টেম বা প্রজননতন্ত্র পরিষ্কার ও সচল থাকে। ভ্যাজাইনায় অনেক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে, যার পরিমাণ হরমোন ও এসিডের মাত্রা দ্বারা নিজস্ব পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত হয়।

ডিসচার্জ বেশি হওয়ার কারণ

বয়সভেদে মাসিকচক্র অনুযায়ী মেয়েদের ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জের পরিমাণ, রং ও টেক্সচার বা ঘনত্ব আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। মাসের একটা নির্দিষ্ট সময়ে আঠালো, সাদা ও স্বচ্ছ স্রাব যেতে পারে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু বিশেষ কিছু সময় ছাড়া অতিরিক্ত ডিসচার্জ অনেক ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যহীনতার কারণ হতে পারে। স্রাব বেশি হওয়ার কারণগুলো একনজরে দেখে নিন তাহলে-
১) জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ গ্রহণ
২) শরীরে হরমোন ও পি এইচ ব্যালেন্সের তারতম্য
৩) অপুষ্টি ও পানি ঠিকমতো না খাওয়া
৪) গর্ভাবস্থা ও ডায়াবেটিস

মাসিকচক্রে ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ এর রং ও ধরন

প্রত্যেকটি মেয়েরই তার স্রাবের রং ও গন্ধ স্বাভাবিক আছে কি না সেটা নিজে নিজে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সময়ভেদে ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জের ঘনত্ব বিভিন্ন রকম হতে পারে। এই ডিসচার্জের যেকোনো অস্বাভাবিকতা আপনার অসুস্থতার ইঙ্গিত হতে পারে। মেন্সট্রুয়াল সাইকেলে কোন সময়ে কেমন স্রাব যাওয়া স্বাভাবিক, সেটা প্রত্যেকটি সচেতন নারীর জানা প্রয়োজন। চলুন এবার তা জানার চেষ্টা করি-

১) দিন ১-৫

মাসিকচক্রের ১-৫ দিন সাধারণত লাল রঙের ব্লাড যায়, যেটা পিরিয়ডের রক্ত! ঋতুস্রাব হচ্ছে অনিষিক্ত ডিম্বাণু, মিউকাস, ইউটেরাইন টিস্যুর মৃত কোষ ইত্যাদির সংমিশ্রণ। অনেকের ৭ দিন পর্যন্ত পিরিয়ড থাকতে পারে।

২) দিন ৬-১৪

মাসিক শেষ হবার পরপরই ভ্যাজাইনা শুষ্ক অনুভূত হয়। এ সময়ে ওভারিতে ডিম্বাণু তৈরি ও ম্যাচিউর হওয়া শুরু করে। অনেকের ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে ঘন, সাদা কিংবা হলদেটে স্রাব যেতে পারে।

৩) দিন ১৪-২৫

এই ফেজকে উর্বর সময় বা fertile window বলা হয়ে থাকে অর্থাৎ এই সময়ে ডিম্বাণু নিষ্কাশন হয়ে ফেলোপিয়ান টিউবে আসে। তাই এই সময়ে শারীরিক মিলনে সন্তান গর্ভে আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ওভাল্যুশনের সময় ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ বেশি হতে পারে এবং ডিমের সাদা অংশের মতো পাতলা, পিচ্ছিল ও স্বচ্ছ স্রাব হয়ে থাকে। ওভাল্যুশনের পর যোনি পথ আবার শুষ্ক ফিল হয় কিংবা সামান্য আঠালো ও ঘন স্রাব থাকতে পারে।

৪) দিন ২৫-২৮

পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগের সময়টা সাধারণত ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ থাকে না বললেই চলে! এই সময়ে মেয়েদের প্রজননতন্ত্র পিরিয়ডের জন্য প্রস্তুতি নেয়। আর ডিম্বাণু যদি শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়ে যায়, সেটা জরায়ুতে স্থাপিত হয়। আর সেই সময় হালকা গোলাপি বা বাদামি রঙের ডিসচার্জ যেতে পারে। এটাকে ইমপ্ল্যানটেশন ব্লিডিং (implantation bleeding) বলা হয়।

কোন সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত?

স্রাবের কোনো অস্বাভাবিক রঙ ও ধরন খেয়াল করলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ জরায়ুর ইনফেকশন, ক্যানসার এসব রোগের লক্ষণও প্রকাশ পায় ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জের মাধ্যমে। তাহলে জেনে নিন কিছু অস্বাভাবিক ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ সম্পর্কে!
১) হলুদ স্রাব অস্বাভাবিক, এটি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ বা যৌনবাহিত সংক্রমণের একটি চিহ্ন। সাধারণত দুর্গন্ধও পাওয়া যায় এই ধরনের ডিসচার্জে।
২) বাদামী রঙের স্রাব যাদের অনিয়মিত মাসিক চক্র থাকে তাদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এটি অনেক সময় জরায়ুমুখের ক্যান্সারের লক্ষণ হয়ে থাকে।
৩) সবুজ স্রাব জীবাণু সংক্রমণের লক্ষণ। যৌনবাহিত ইনফেকশন থাকলেও অনেক সময় সবুজাভ ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ যেতে পারে।
৪) ধূসর রঙের স্রাব অস্বাস্থ্যকর এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণজনিত একটি উপসর্গ হতে পারে। ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে যোনীপথে আরও উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যেমন- অস্বস্তি, চুলকানি ইত্যাদি।
৫) ইস্ট বা ছত্রাক সংক্রমণে পুরু, ঘন এবং সাদা স্রাব নির্গত হয়। মোটামুটিভাবে ৯০ শতাংশ মহিলারা তাদের জীবনের কোন না কোন সময়ে ছত্রাক সংক্রমণের সম্মুখীন হয়।
তাহলে জেনে নিলেন, মাসিকচক্র অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ সম্পর্কে! অস্বাভাবিক রঙের স্রাব ছাড়াও মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্ত যাওয়া, সময়মতো পিরিয়ড না হওয়া, অতিরিক্ত দুর্গন্ধ এসব কারণেও ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। যোনিপথের যেকোনো সমস্যা কিংবা ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জের অস্বাভাবিকতা থাকলে অবশ্যই একজন সুদক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেকে চিকিৎসা নেয়া উচিত। সুস্থ থাকুন, সুস্থ রাখুন।

Share:

মেনোপজ কী, কেন হয় ও এর লক্ষণ


অনেক মহিলাই আছেন, যাদের মেনোপজ এর সময় এগিয়ে আসছে এবং এটা নিয়ে তাদের মধ্যে একটা চাপা আতংক বা দুশ্চিন্তা কাজ করে। অনেকে আবার এটা নিয়ে কুসংস্কারে ভোগেন। এই সময়টা সব মহিলাকেই ফেস করতে হবে, তাই অহেতুক চিন্তা না করে, এই সময় কি কি হতে পারে এবং তার বিপরীতে কী কী করা যেতে পারে, সেগুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে বিষয়টা মোকাবেলা করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

মেনোপজ কী? 

মেনোপজ (menopause) কী সেটা নিয়ে একটা ক্লিয়ার ধারণা থাকা দরকার। মেনোপজ মহিলাদের জন্য খুব স্বাভাবিক একটা অবস্থা, যেটা সাধারণত বয়েস চল্লিশ পার হবার পরে সকলেরই হয়ে থাকে। একজন মহিলার স্বাভাবিক সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পাওয়া এবং রিপ্রোডাকশন পিরিয়ড সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঠিক আগের সময়টায় যে শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তনগুলো আসে, সেগুলোকেই মেনোপজের শুরু বলা যায়।

মেনোপজ কেন হয়?

একজন মহিলা সাধারণত একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিম্বাণু নিয়ে জন্ম গ্রহন করেন, যেগুলো তার জরায়ুতে সংরক্ষিত থাকে। জরায়ু মহিলাদের শরীরের ইসট্রোজেন এবং প্রজেসটেরন হরমোন তৈরি করে, যেটা প্রতিমাসের মাসিক এবং ওভাল্যুশনকে নিয়ন্ত্রন করে। যখন জরায়ু থেকে ডিম্বাণু নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায় এবং মাসিক বন্ধ হয়ে যায়, তখনই মেনোপজ হয়।

মেনোপজের ধাপ কয়টি? 

মেনোপজ এর তিনটি ধাপ রয়েছে। যথাক্রমেঃ পেরিমেনোপজ, মেনোপজ এবং পোষ্ট মেনোপজ। মেনোপজ শুরুর আগের কয়েক বছর সময়কে বলা হয় পেরিমেনোপজ। এইসময় আস্তে আস্তে মেনোপজ এর লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। অর্থাৎ মেনোপজ শুরুর দুই থেকে তিন বছর আগে থেকেই এই প্রক্রিয়াটি শুরু হয়ে যায়। আর মেনোপজ হচ্ছে এই প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে এক বছর পর্যন্ত সময়কালকে।
এই সময় যে যে শারীরিক পরিবর্তন সেগুলো নিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। যেটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু এগুলো ধামাচাপা দিয়ে না রেখে বরং কাছের মানুষ, প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।

মেনোপজ এর লক্ষণ

১) হট ফ্ল্যাশ

মেনোপজ এর সময় যে জিনিসটা সকলকে খুব ভোগায় তা হলো হট ফ্ল্যাশ (Hot Flash)। বাইরের কোনও উৎস ছাড়াই হঠাৎ করে ভীষণ গরম লাগা। সেটা খুব ঠাণ্ডার দিনেও হতে পারে। এর সময়কাল কয়েক সেকেন্ড থেকে শুরু করে মিনিট দশেক পর্যন্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে ঠাণ্ডা পানি খেতে পারেন। একটু ঢিলে সুতির কাপড় পড়তে পারেন। এতে হট ফ্ল্যাশ হলেও স্বস্তিতে থাকবেন।

২) চুল পড়া

মেনোপজ এর সময়ে হঠাৎ করে অনেক চুল পড়া শুরু হয়। এতে অনেকে খুব অস্বস্তিতে ভোগেন নিজেদের বাহ্যিক পরিবর্তনে। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে চুল পড়াটা স্থায়ী কিছু না। মূলত ইসট্রোজেন এবং প্রজেসটেরন হরমোন এর উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে চুল পাতলা হওয়া শুরু হয়। এটা একেবারে থামানো সম্ভব না। তবে স্ট্রেস ফ্রি থাকা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, পুষ্টিকর ডায়েট মেনে চলা, ভিটামিন সাপ্লিমেনট নেয়া ইত্যাদি চুল পড়ার হার অনেকটা কমিয়ে আনতে পারে।

৩) যৌন মিলনে অনিহা

ইসট্রোজেন এবং প্রজেসটেরন হরমোন এর উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে শারীরিকভাবে যৌন মিলনের আগ্রহ অনেকটা কমে যায়। পাশাপাশি ইসট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়ায় যোনিপথ অনেক বেশি শুষ্ক হয়ে থাকে, যে কারণে যৌন মিলন মহিলাদের জন্য কষ্টদায়ক হয়ে যায়। এই সমস্যা দূর করতে ঘরোয়া টোটকা বা এর ওর কথা না শুনে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়াই শ্রেয়।

৪) মুড সুইং

এসময় শরীরে ইসট্রোজেন হরমোন এর ঘাটতি থাকে বলে সেরেটোনিন এবং ডোপামিন হরমোন এর ইমব্যালান্স দেখা দেয় শরীরে। যে কারণে ঘন ঘন মুড বদলাতে থাকে। এর আরও একটি কারণ হলো এসময়ের অন্যান্য শারীরিক পরিবর্তন। যেমন- ওজন বেড়ে যাওয়া, চুল পড়া, হট ফ্ল্যাশ। এগুলোর কারণেঅনেকেই সারাক্ষণ স্ট্রেস এ ভোগেন যেটা থেকে তুচ্ছ কারণে খিটখিটে মেজাজ দেখা দেয়। তবে নিয়মিত ব্যায়াম, নিয়ম করে হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্ট্রেস ফ্রি থাকতে পারলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।

৫) জয়েন্ট পেইন

শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা, বিশেষ করে হাঁটু, কনুই, আঙ্গুল, পিঠ এইসময় থেকে শুরু হতে থাকে। তবে মেনোপজ ছাড়াও কারো যদি আথ্রাইটিস, লুপাস এবং বারসাইটিস এর সমস্যা থেকে থাকে তাহলে এই ধরনের ব্যথা বেশ খারাপ আকার ধারন করে। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো এগুলোর কোন স্থায়ী চিকিৎসা নেই। বিভিন্ন ধরনের থেরাপি, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ, ওজন নিয়ন্ত্রন এই ব্যথার কিছুটা উপশম করে থাকে।

৬) ওজন বৃদ্ধি

মেনোপজের সময়ে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি একটা অন্যতম সমস্যা। এটার কারণে হাঁটু , কোমর এবং পিঠের ব্যথায় ভোগেন অনেকে। এই সময় যেহেতু ইসট্রোজেন এবং প্রজেসটেরন হরমোন হ্রাস পায় শরীরে তাই সন্তান উৎপাদন ক্ষমতাও কমতে থাকে। এই হরমোনের অভাবে ওজন নিয়ন্ত্রন করাও কষ্টকর হয়ে পরে আস্তে আস্তে। এছাড়া বয়সের এই ধাপে এসে পারিপার্শ্বিক অনেক কিছুই ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন, এসময় ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে চাকরি, পড়াশোনা বা বিয়ের কারণে দূরে চলে যায়। চাকরিজীবীদের পেনশনে চলে যাওয়ার সময় চলে আসে। এসব কারণে মনের অস্থিরতা বাড়ে। তাই চল্লিশের পর থেকেই পরিমিত খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা খুব জরুরি। কেননা, এই ওজন বৃদ্ধির ফলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

৭) অনিদ্রা

মেনোপজ এর সময়ে মহিলাদের আরেকটা সমস্যা হলো ঘুম না হওয়া বা ঘুম হলেও ঘুম থেকে ওঠার পরেও সারাদিন ঘুম ঘুম লাগা বা ক্লান্তি লাগা । অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় রাতে ঘুম থেকে উঠে বসে আছেন। যার কারণ হট ফ্ল্যাশ বা প্রচণ্ড ঘেমে যাওয়া। আবার এই বয়সে অনেকে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্ত চাপ বা অন্য কোন অসুখের কারণে ওষুধ শুরু করেন। এসব ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবেও অনিদ্রা হতে পারে। এক্ষেত্রে অনেকে ঘুমের ওষুধ খাওয়া শুরু করেন, যেটা একেবারেই ঠিক না। শুধু মাত্র ডাক্তারের পরামর্শেই ঘুমের ওষুধ খাবেন। ভালো ঘুম হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ঘুমের সময়, উপযুক্ত ব্যায়াম, ক্যাফেইন গ্রহন কমিয়ে আনা এই কাজগুলো বেশ ভালো কাজ দেয়।
পরিশেষে বলবো, মেনোপজ খুব স্বাভাবিক একটা প্রক্রিয়া। যেটা একটা বয়সের পরে সব মহিলাদের গ্রহন করতে হবে। এই সময়ে যেহেতু হুট করে শারীরিক একটা বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটা নিয়ে অনেকেই হীনমন্যতায় ভোগেন, ডিপ্রেশনে পরে যান। কিন্তু পুরো বিষয়টাকে সহজভাবে গ্রহন করলে এবং পরিবারের কাছের মানুষের সাপোর্ট পেলে পুরো ব্যাপারটাই অনেক সহজ হয়ে যায়। ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন।
Share:

সোমবার, ৮ জুন, ২০২০

কোভিড-১৯ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিধি সংক্রান্ত নির্দেশনার আলোকে ফেইস মাস্কের যথাযথ ব্যবহার বিধি


১)         কর্মস্থলে সার্বক্ষনিক ফেইস মাস্ক  পরিধান করতে হবে। ব্যবহৃত মাস্ক সার্জিক্যাল বা তিনপরত বিশিষ্ট কাপড়ের তৈরী হতে হবে।
২)         সার্জিক্যাল মাস্ক শুধুমাত্র ০১ (এক) বার ব্যবহারযোগ্য। ব্যবহারের পর তা অবশ্যই ঢাকনাযুক্ত নির্দিষ্ট ঝুড়ি/ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে। কাপড়ের তৈরী মাস্ক পুনঃব্যবহার যোগ্য এবং ডিটারজেন্ট/সাবান-পানিতে ধুয়ে ব্যবহার করা যাবে।
৩)         মাস্ক পরিধানের সময় এমনভাবে পরিধান করতে হবে যেন তা নাকের উপরিভাগ থেকে থুঁতনি/চিবুকের নিম্নাংশ পর্যন্ত আবৃত রাখে এবং কোথাও যেন ফাঁকা জায়গা না থাকে।
৪)         পরিধান এবং খোলার সময় মাস্কের দুই পার্শ্বের ফিতা ধরে আলতোভাবে পরতে/খুলতে হবে যেন কোনক্রমেই মুখমন্ডল, ঘাড়, গলায় স্পর্শ না করে।
৫)         কোন অবস্থাতেই পরিধানকৃত মাস্কের মাঝখানে স্পর্শ করা যাবে না। স্পর্শ লেগে গেলে ব্যবহৃত মাস্ক খুলে ফেলতে হবে এবং হাত সাবান-পানি/স্যানিটাইজার দিয়ে জীবানুমুক্ত করতে হবে।
৬)         ফেইস মাস্ক সার্বক্ষণিক যথাস্থানে পরিধান করতে হবে। কোন অবস্থাতেই গলায় ঝুলিয়ে রাখা যাবে না এবং ব্যবহারকালীন অবস্থায় মাস্ক নামিয়ে কথা বলা যাবে না।



Share:

শুক্রবার, ৮ মে, ২০২০

অনিদ্রায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


কফিয়া ক্রুডা – ভবিষ্যতের জন্য মনের মধ্যে সর্বদা নানাপ্রকার চিন্তা ও কল্পনা তজ্জন্য অনিদ্রা। ঘুম যেন কিছুতেই চোখে আসে না। সমস্ত রাত্রি বিছানায় ছটফট করে। হঠাৎ শোক, দুঃখ, উদ্বেগ, আনন্দ তাহার কুফলে পীড়া। কোন চর্মপীড়ায় চুলকানির ফলে অনিদ্রা।
নাক্স ভোমিকা - নাক্স ভোমিকার রোগী প্রায়শই খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে পারেন তবে দুর্দান্ত মানসিক ক্রিয়াকলাপ বা উদ্বেগের সাথে ভোর ৫ টা বা ৪:০০ এ জাগ্রত হয়। জাগ্রত হওয়ার পর আর ঘুম আসে না। বিছানায় এপাশ ওপাশ করে। এই জাতীয় তীব্র অনিদ্রা সাধারণত ওষুধের অত্যধিক ব্যবহার বা অ্যালকোহল, কফি এবং ওয়াইন সহ উত্তেজক দ্বারা বা অতিরিক্ত কাজ বা অতিরিক্ত অধ্যয়নের ফলে হয়। সাধারণ নাক্স ভোমিকার রোগী বিরক্তিকর, সহজেই ক্ষুব্ধ এবং অধৈর্য ধরনের হয়।



ক্যামোমিলা - যাদের ক্যামোমিলার প্রয়োজন হয় তারা সাধারণত বিরক্তিকর, অসম্পূর্ণ অবস্থায় থাকেন। তারা প্রায়শই ব্যথা বা বিরক্তিতে ভোগে। তারা দিনের বেলা ঘুমানোর অদ্ভুত লক্ষণ থাকতে পারে। এই বিরক্তিকরতা প্রায়শই দাঁত উঠা শিশুদের মধ্যে পাওয়া যায়।
ককুলাস - যাদের এই ঔষধের প্রয়োজন তাদের ক্লান্তি থেকে নিদ্রাহীন। অনেকদিন পর্যন্ত রাত্রি জাগিয়া অনিদ্রাবশত কোনও পীড়া বা অনিদ্রা। এটি প্রায়শই রাত্রে দেখা বা অসুস্থ ব্যক্তিদের নার্সিংয়ের সাথে সম্পর্কিত ঘুম হ্রাস থেকে আসে। জেগে ওঠার মাধ্যমে তাদের ঘুম ব্যাহত হতে পারে।
বেলাডোনা – এই ঔষধের রোগীরা নিদ্রাহীন, তবুও ঘুমাতে পারছেন না। তারা প্রায়শই ঘুমের সময় বা ঘুমিয়ে পড়ার সময় হঠাৎ ঝাঁকুনি দেয়। তারা প্রায়শই অস্থির থাকে। তীব্র অসুস্থতা বা জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এই জাতীয় নিদ্রাহীন অবস্থা প্রায়শই দেখা যায়।
জেলসিমিয়াম - অনিদ্রার জন্য যাদের এই ঔষধের প্রয়োজন হয় তারা প্রায়শই নিস্তেজ ও নিবিড়, এমনকি কাঁপতে থাকে। তবুও তারা পুরোপুরি ঘুমাতে পারে না। কখনও কখনও তারা ঘুমিয়ে পড়া শুরু করে। অবশেষে যখন ঘুমায় তখন তাদের অস্থির ঘুম বা বোকা, ভারী ঘুম হতে পারে।
ক্যাপসিকাম - যাদের ঘরের অসুস্থতা বা অনুরূপ সংবেদনশীল অবস্থায় থেকে নিদ্রাহীনতায় ভোগে তাদের এই ঔষধটি প্রয়োজন হয়। বিশেষত যদি তাদের লাল গাল থাকে।
স্টেফিসাগ্রিয়া – এই ঔষধের রোগীদের দিনের বেলায় নিদ্রা হয় বেশ। কিন্তু রাত্রিতে অনিদ্রায় ভোগে ও আচ্ছন্নভাব দেখা যায়।
হায়োসিয়েমাস- শিশুদের অনিদ্রা, একটু নিদ্রা আসিলেই শিহরিয়া উঠে, হাত পা কাপিয়া চিৎকার করিয়া কাদে। কোন কোন ব্যক্তি ঘুমাইতে হঠাৎ লাফাইয়া উঠে, অনিদ্রার কোন প্রকৃত কারণ পাওয়া যায় না, আদৌ ঘুম হয় না।
ইগ্নেসিয়া- শোক বা দুঃখ চাপিয়া রাখিবার জন্য পীড়া। মনের কষ্ট কাহাকেও বলে না। অনিদ্রায় অস্থিরতা, মাথায় বোধ হয় যেন কেহ এক পার্শ্ব দিয়া একটি পেরেক ঢুকাইয়া দিয়াছে।

উপরোক্ত ঔষধসমূহ ছাড়াও অন্য ঔষধের প্রয়োজন হতে পারে অতএব লক্ষণ ভিত্তিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করুন।

বিঃদ্রঃ নিজ উদ্দোগে কোন ঔষধ সেবন করবেন না, নিকটস্থ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ি ঔষধ সেবন করুন।

Share:

বুধবার, ৬ মে, ২০২০

ঔষধের শক্তি নির্বাচনের উপায়

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ঔষধের শক্তি নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হোমিওপ্যাথিকে ‍বিভিন্ন রোগের অবস্থার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন শক্তির ঔষধ ব্যবহার করতে হয়। প্রথমেই জানা প্রয়োজন হোমিওপ্যাথিক ঔষধের শক্তি সম্পর্কে।
Range of Potency:
1)     Low= Mother tincture (Q) to 12C
2)     Medium= 30C to 200C
3)    High=1M to 50M
4)    Highest= CM, DM, MM.
এখানে M=১০০০, CM= ১ লক্ষ, DM=৫ লক্ষ, MM= ১০ লক্ষ


  •         তরুন পীড়ায় অধিক সাদৃশ্য ঔষধটি নির্বাচন করিয়া সাধারনত ৩০ শক্তির ঔষধ প্রয়োগ করাই শ্রেয়। যদি রোগের তীব্রতা অধিক হয় তবে নিম্নশক্তির ঔষধ ব্যবহার করা উত্তম আর যদি রোগের তীব্রতা খুব বেশী না হয় তবে মধ্য শক্তির ঔষধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
  •         কোন চিররোগের রোগীর চিকিৎসা আরম্ভ করিবার সময় যদি দেখা যায় রোগীর তরুন কষ্টকর কিছু লক্ষণ আছে তবে সেক্ষেত্রে রোগীকে প্রথমে স্বল্পকালীন ক্রিয়াশীল ঔষধ নিম্ন বা মধ্য শক্তিতে প্রয়োগ করিয়া প্রথমে কষ্টকর লক্ষণ দূর করিয়া পরবর্তীতে লক্ষণ মোতাবেক চিররোগের গভীরভাবে ক্রিয়াশীল ঔষধ উচ্চশক্তিতে প্রয়োগ করিতে হবে।
  •         চিররোগের চিকিৎসায় যদি অন্যকোন লক্ষণ বা তরুণ কোন কষ্টকর লক্ষণ না থাকে তবে গভীর ক্রিয়াশীল ঔষধ প্রথমেই  উচ্চ শক্তিতে প্রয়োগ করিতে হবে। তবে গভীর ক্রিয়াশীল উচ্চ শক্তির ঔষধ প্রয়োগ করিবার সময় অবশ্যই রোগীর জীবনী শক্তির দিকে খেয়াল রাখিতে হবে। যদি দেখা যায় রোগীর জীবনীশক্তি দূর্বল সেক্ষেত্রে উচ্চশক্তির ঔষধ প্রয়োগ করিলে ঔষধের প্রতিক্রিয়ায় রোগীর ক্ষতি হতে পারে, এমন অবস্থায় রোগীকে আগে নিম্ন বা মধ্য শক্তির ঔষধ প্রয়োগ করিয়া জীবনীশক্তি সবল করিয়া পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে রোগীকে উচ্চ হতে উচ্চতর শক্তি প্রয়োগ করিতে হবে।
  •        যেখানে কোন চর্মরোগ বা অন্যকোন স্রাব চাপা পড়িয়াছে ইতিহাস পাওয়া যায় সেখানে পুনরায় স্রাব নির্গমণ করিতে হবে অন্যথায় আরোগ্য হওয়ার আশা করা যায় না। এসব ক্ষেত্রে তরুণ অবস্থায় মধ্য শক্তি এবং চিররোগের ক্ষেত্রে উচ্চ শক্তির ঔষধ ব্যবহার করা প্রয়োজন।
  •         তরুণ বা চির যে কোন রোগের বেলায় যদি লক্ষণের বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখা যায় তবে এমতাবস্থায় ৩০ বা ২০০ শক্তির উপরে ঔষধ ব্যবহার করা উচিত নয়।
  •         যেখানে রোগী অতিশয় দূর্বল বা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে উপস্থিত হইয়াছে সেখানে কোন অবস্থাতেই উচ্চ শক্তির ঔষধ প্রয়োগ করা যাবে না। সেখানে নিম্ন বা মধ্য শক্তির ঔষধ ব্যবহার করিতে হবে।
  •         উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত কোন রোগের প্রবনতাকে আরোগ্য করিতে হইলে প্রথমেই উচ্চশক্তির ঔষধ প্রয়োগ করিতে হবে।

হোমিওপ্যাথিতে রোগীর চিকিৎসায় ঔষধ নির্বাচন করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ ঠিক তেমনই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচিত ঔষধের শক্তি নির্বাচন করা। যদি ঔষধ নির্বাচন সঠিক হয় কিন্তু ঔষধের শক্তি নির্বাচন সঠিক না হয় তবে রোগী আরোগ্য লাভ না ও করতে পারে। সুতরাং রোগীকে আরোগ্য লাভ করার জন্য সাদৃশ্য মতে ঔষধ নির্বাচন করা যেমন আবশ্যক তেমনিভাবে নির্বাচিত ঔষধের শক্তির নির্বাচনও সঠিক হওয়া আবশ্যক।
Share:

Clock

Facebook Page